WB DA News: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর! দীর্ঘদিনের বকেয়া ডিএ (DA) এবং নতুন পে কমিশন (Pay Commission) নিয়ে আজ বিদ্যুৎ দপ্তরে সদর্থক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সরকারি কর্মীদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। পুজো তথা অক্টোবরের আগেই মিলতে চলেছে বর্ধিত বেতনের সুবিধা।
সূচিপত্র
বকেয়া ডিএ (DA) এবং ২০% ডিএ বৃদ্ধি
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ (Arrear DA) ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের ডিএ-র সাথে রাজ্যের যে ৪২ শতাংশের ফারাক ছিল, তা এক ধাক্কায় মেটানো সম্ভব না হলেও বাজেটে ২০ শতাংশ ডিএ ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী অক্টোবর মাস থেকে, অর্থাৎ পুজোর আগেই কর্মচারীরা এই বর্ধিত ডিএ সহ অগ্রিম বেতন পাবেন বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
সপ্তম পে কমিশন (7th Pay Commission) গঠন
সরকারি কর্মীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে বড় ঘোষণা হলো, রাজ্যে ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হয়েছে। এর ‘টার্মস অ্যান্ড রেফারেন্স’ প্রস্তুত হয়ে গেছে। আগামী ছয় মাস ধরে আলোচনা চলবে। চলতি আর্থিক বছরের শেষের দিকেই এই পে কমিশন কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। পূর্ববর্তী সরকারের আমলে ষষ্ঠ পে কমিশন কার্যকর করার দীর্ঘসূত্রিতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি দ্রুততার সাথে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছেন।
চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের (Contractual Employees) জন্য সুখবর
ওয়েবেল (Webel) বা অন্যান্য থার্ড পার্টির মাধ্যমে নিযুক্ত চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিষয়েও রাজ্য সরকার সহানুভূতিশীল। এই কর্মীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য সেলিম সাহেব এবং শান্তনু বসু মহাশয়কে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের কাজের সঠিক মূল্যায়ন এবং আর্থিক উন্নতি হয়।
বিদ্যুৎ দপ্তরে কড়া নির্দেশ: জিরো টলারেন্স নীতি
বিদ্যুৎ দপ্তরের কর্মীদের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট এবং কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন:
- হুকিং জিরো (Zero Hooking): বিদ্যুৎ চুরির ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ (Political Intervention) বরদাস্ত করা হবে না। দলমত নির্বিশেষে সরাসরি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
- বকেয়া বিল আদায়: শিল্প এবং বাণিজ্যিক (Industrial and Commercial) ক্ষেত্রে বকেয়া বিল আদায়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করতে হবে। বড় নেতাদের প্রতিষ্ঠান হলেও ছাড় দেওয়া হবে না।
- স্মার্ট মিটার (Smart Meter): প্রথম ধাপে সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি কর্মচারীদের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বসানো হবে। সাধারণ মানুষের ভ্রান্ত ধারণা দূর করতে ধাপে ধাপে এটি চালু হবে এবং অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ গ্রিভেন্স সেল (Grievance Cell) বা হেল্পলাইন থাকবে।
জনকল্যাণমূলক কাজের খতিয়ান
সরকারের ছোট কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু জনকল্যাণমূলক কাজের কথাও মুখ্যমন্ত্রী তুলে ধরেন:
| খাত | পূর্বের বরাদ্দ | বর্তমান বরাদ্দ | বিশেষ মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| মিড-ডে মিল (আপার প্রাইমারি/হাই স্কুল) | ৬-৭.৮০ টাকা | ১০ টাকা | কেন্দ্র না দিলেও রাজ্যের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রদান |
| সরকারি হাসপাতালের ডায়েট (৩ বেলা) | ৫৬.৪০ টাকা (২০১৭ সাল থেকে) | ১১০ টাকা | রোগীদের পুষ্টিকর খাবার সুনিশ্চিত করতে একধাক্কায় বৃদ্ধি |
প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা (PM Surya Ghar Yojana)
বিকল্প শক্তির প্রসারে রাজ্য সরকার মহারাষ্ট্রের মডেলে ‘প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা’ রাজ্যে শুরু করেছে। প্রথম পর্যায়ে ১ লক্ষ কোটা পাওয়া গেছে। এই প্রকল্পে এসসি (SC) এবং এসটি (ST) উপভোক্তাদের ক্ষেত্রে সোলার প্যানেল বসানোর খরচের উপর রাজ্য সরকারের তরফ থেকে অতিরিক্ত ৫,০০০ টাকা (মোট ১৫,০০০ টাকার সুবিধা) ভর্তুকি দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী শেষে জানান, রাজ্যকে ভারতের এক নম্বর স্থানে নিয়ে যেতে তিনি এবং তাঁর সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। স্বচ্ছতা এবং দ্রুততার সাথে কাজ করার জন্য তিনি সমস্ত আধিকারিক ও কর্মচারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।









