WB Morning School: বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া খুললেই চোখে পড়ছে একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি। যেখানে দাবি করা হচ্ছে যে, আগামী ১৫ই জুলাই ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যের স্কুলগুলিতে মর্নিং স্কুল (Morning School) চালু রাখার নির্দেশিকা দিয়েছে স্কুল শিক্ষা দপ্তর। ২৯শে জুন ২০২৬ তারিখের এই বিজ্ঞপ্তিটি মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক থেকে শুরু করে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই নিয়ে তীব্র কৌতূহল ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই জানতে চেয়েছেন, এই বিজ্ঞপ্তির সত্যতা কতটুকু। আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা এই ভাইরাল বিজ্ঞপ্তির সম্পূর্ণ ফ্যাক্ট-চেক করে আপনাদের সামনে আসল সত্য তুলে ধরব।
সূচিপত্র
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বিজ্ঞপ্তিতে কী দাবি করা হয়েছে?
গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে আবহাওয়া সংক্রান্ত নানা রিপোর্ট সামনে আসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে:
- রাজ্যের প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলির ডিআই (DI)-দের উদ্দেশ্যে স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
- ছাত্র-ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে, আগামী ১৫ই জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সমস্ত বিদ্যালয়কে মর্নিং শিফটে (Morning Shift) ক্লাস করানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- আবহাওয়া পুরোপুরি অনুকূল না হওয়া পর্যন্ত জেলার স্কুলগুলির নিজস্ব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে।
কেন এই বিভ্রান্তি ছড়াল?
গ্রীষ্মের দীর্ঘ ছুটির পর রাজ্যে স্কুল খুললেও, বেশ কিছু জেলায় এখনও ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় গরমের কারণে পড়ুয়াদের স্কুলে যেতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। ঠিক এই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগিয়েছে একদল অসাধু চক্র। তারা দপ্তরের পূর্বের একটি বৈধ বিজ্ঞপ্তিকে এডিট (Edit) করে, তারিখ বদলে দিয়ে ২৯শে জুন ২৬ করে দিয়েছে এবং ১৫ই জুলাই পর্যন্ত মর্নিং স্কুল চলার একটি ভুয়ো খবর রটিয়ে দিয়েছে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কষ্ট লাঘব হবে ভেবে এই খবরটি যাচাই না করেই দ্রুত শেয়ার করছেন, যা বিভ্রান্তির মাত্রাকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছে।
ফ্যাক্ট চেক: বিজ্ঞপ্তিটি কি আসল না সম্পূর্ণ ভুয়ো?
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই বিজ্ঞপ্তিটি সম্পূর্ণরূপে ফেক বা ভুয়ো। এটি আসল না হওয়ার পেছনে বেশ কয়েকটি অকাট্য প্রমাণ রয়েছে:
- মেমো নম্বর (Memo Number) বিভ্রাট: ভাইরাল হওয়া এই বিজ্ঞপ্তির মেমো নম্বর এবং এর আগে প্রকাশিত হওয়া আসল মর্নিং স্কুলের বিজ্ঞপ্তির নম্বর হুবহু এক। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একটি নতুন নির্দেশিকার ক্ষেত্রে মেমো নম্বর কখনোই হুবহু আগের মতো হতে পারে না।
- ভাষার কারচুপি: পূর্বের বিজ্ঞপ্তির ভাষার সাথে এই ভুয়ো বিজ্ঞপ্তির ভাষাগত গঠন সম্পূর্ণ এক। শুধুমাত্র তারিখটি এডিট করে বসানো হয়েছে, যা স্পষ্টতই ডিজিটাল জালিয়াতির প্রমাণ।
- সরকারি পোর্টালে অনুপস্থিতি: বিকাশ ভবন বা স্কুল শিক্ষা দপ্তরের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ‘বাংলার শিক্ষা’ (Banglar Shiksha) পোর্টালে এমন কোনো নির্দেশিকা বা নোটিশ এখনও পর্যন্ত আপলোড করা হয়নি।
শিক্ষক, ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য জরুরি পরামর্শ
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ভুয়ো খবর খুব দ্রুত দাবানলের মতো ছড়ায়। তাই কোনো খবর যাচাই না করে বিশ্বাস করবেন না এবং অন্যকে ফরোয়ার্ড করবেন না।
- হোয়াটসঅ্যাপ বা ফেসবুকে পাওয়া কোনো স্ক্রিনশট বা পিডিএফ (PDF) দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন না।
- যে কোনো খবরের সত্যতা যাচাই করতে সর্বদা অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ফলো করুন।
পরিশেষে এটাই বলা যায় যে, আগামী ১৫ই জুলাই পর্যন্ত মর্নিং স্কুল চালু রাখার যে বিজ্ঞপ্তিটি বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্কুল শিক্ষা দপ্তর থেকে নতুন কোনো নির্দেশিকা না আসা পর্যন্ত, নিয়ম অনুসারেই বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পঠনপাঠন চলবে। যদি ভবিষ্যতে সত্যিই এমন কোনো সরকারি নির্দেশিকা প্রকাশ হয়, তবে তা আমরা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেব। অযথা আতঙ্কিত বা বিভ্রান্ত হবেন না, সুস্থ থাকুন এবং সতর্ক থাকুন।









