পশ্চিমবঙ্গ

Bhumihin Kshetmajur Prakalpa: ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্পের আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করবেন কীভাবে? জেনে নিন সম্পূর্ণ পদ্ধতি

Krishak Bandhu West Bengal
Krishak Bandhu West Bengal

Bhumihin Kshetmajur Prakalpa: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তর রাজ্যের প্রান্তিক মানুষদের জন্য সর্বদা সচেষ্ট। বিশেষ করে যে সমস্ত মানুষেরা কৃষিকাজের সঙ্গে যুক্ত কিন্তু নিজেদের কোনো জমি নেই, তাদের জন্য রাজ্য সরকার নিয়ে এসেছে “ভূমিহীন ক্ষেতমজুর প্রকল্প”। এই প্রকল্পের মাধ্যমে অন্যের জমিতে কাজ করা শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। সম্প্রতি এই প্রকল্পের আবেদনকারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট এসেছে— এখন ঘরে বসেই অনলাইন মাধ্যমে আবেদনের স্থিতি বা স্ট্যাটাস চেক করা যাচ্ছে।

সূচিপত্র

অনলাইনে স্ট্যাটাস চেক করার সহজ পদ্ধতি

দুয়ারে সরকার বা অন্য কোনো সরকারি ক্যাম্পে যারা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাদের আবেদনপত্রটি গৃহীত হয়েছে কি না, তা জানা এখন অত্যন্ত সহজ। যুবশ্রী বা অন্যান্য জনমুখী প্রকল্পের মতোই কৃষি দপ্তর একটি নির্দিষ্ট পোর্টাল চালু করেছে।

  • প্রথমে কৃষি দপ্তরের নির্দিষ্ট পোর্টালে (krishakbandhu.wb.gov.in/agricultural-labour) যেতে হবে।
  • সেখানে ‘Check Application’ বা অনুরূপ অপশনে ক্লিক করলে একটি নতুন পেজ খুলবে।
  • আপনার ভোটার কার্ড নম্বর, আধার নম্বর, একনলেজমেন্ট নম্বর অথবা মোবাইল নম্বর— এই তিনটি বিকল্পের মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করে সার্চ করলেই বর্তমান স্ট্যাটাস স্ক্রিনে ভেসে উঠবে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়: অনেক আবেদনকারী সার্চ করার পর “No Record Found” দেখতে পারেন। এতে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এর অর্থ হলো, আপনার আবেদনপত্রটি এখনও সিস্টেমের ডেটাবেসে এন্ট্রি করা হয়নি। বর্তমানে জোরকদমে ডেটা এন্ট্রির কাজ চলছে, তাই কিছুদিন পর পুনরায় চেষ্টা করলে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে।

Advertisement

প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা ও কাঠামো

এই প্রকল্পটি মূলত কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের ধাঁচে তৈরি করা হয়েছে, তবে এটি শুধুমাত্র ভূমিহীনদের জন্য।

  • বার্ষিক অনুদান: এই প্রকল্পের আওতায় উপভোক্তারা বছরে মোট ৪,০০০ টাকা সরকারি অনুদান পাবেন।
  • কিস্তির নিয়ম: এই টাকা একবারে দেওয়া হবে না। খরিফ ও রবি— এই দুই মরশুমে ২,০০০ টাকা করে দুটি সমান কিস্তিতে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।

কারা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য?

সবাই এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করলেই এই সুবিধা মিলবে:
১. আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. নিজের নামে এক ছটাকও কৃষিজমি থাকা চলবে না এবং জীবিকার জন্য পুরোপুরি অন্যের জমির ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।
৩. আবেদনকারী যদি আগে থেকেই ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা পান অথবা সরকারি নথিতে ‘বর্গাদার’ হিসেবে নাম থাকে, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় নথি

মনে রাখবেন, এই প্রকল্পের জন্য সরাসরি অনলাইনে আবেদন করার কোনো সুযোগ নেই। আবেদন শুধুমাত্র অফলাইন মোডে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হয়। দুয়ারে সরকার ক্যাম্প বা স্থানীয় কৃষি দপ্তরে ফর্ম জমা নেওয়া হয়। আবেদনের সঙ্গে ভোটার কার্ড (বাধ্যতামূলক), আধার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি (পাসবুক বা বাতিল চেক), পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং নিজে যে ভূমিহীন তার একটি স্ব-ঘোষণাপত্র জমা দেওয়া আবশ্যক। নমিনির তথ্যও ফর্মে উল্লেখ করতে হবে।

রাজ্যের অগণিত ভূমিহীন কৃষিশ্রমিকদের জন্য এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি বড় স্বস্তির খবর। আপনার আবেদনটি ঠিক কোন পর্যায়ে আছে, তা আজই পোর্টাল থেকে যাচাই করে নিন।

Munmun Bera

Munmun Bera

Munmun Bera is a leading financial educator and the founding editor of wbpay.in, specializing in the complex landscape of government payroll systems, including West Bengal State Service Rules (ROPA), Central Government pay commission updates, and national employee financial frameworks like EPF, GPF and Income Tax. With a strong academic background in Finance and over 7 years of deep involvement in… more>>