DA Case Update: আজ সুপ্রিম কোর্টের ৮ নম্বর এজলাসে বহু চর্চিত ডিএ (DA) বা মহার্ঘ ভাতা মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হলো। আজ দুপুর ২টো ১০ মিনিট নাগাদ এই হাইভোল্টেজ মামলার শুনানি শুরু হয় এবং তা প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল এবং বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর স্পেশাল বেঞ্চে রাজ্য সরকার বনাম কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ মামলাটি আজ “ফিক্সড ম্যাটার” বা পার্ট-হার্ড হিসেবে তালিকাভুক্ত ছিল। লক্ষ লক্ষ রাজ্য সরকারি কর্মী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীরা এই মামলার দিকে চেয়ে রয়েছেন। আজকের এই সংক্ষিপ্ত শুনানিতে আদালত এবং আইনজীবীদের মধ্যে যে প্রশ্নোত্তর পর্ব চলেছে, তা রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ আদায়ের লড়াইয়ে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূচিপত্র
শুনানি ও আইনজীবীদের উপস্থিতি
আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে বেশ কয়েকজন প্রথিতযশা আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। ইউনিটি ফোরামের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী করুণা নন্দী। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা রাজ্য সরকারের পক্ষে ভিডিও কনফারেন্স (VC) মোডে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পক্ষে বিশিষ্ট আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত ছিলেন। সুপ্রিম কোর্টের এই বিশেষ বেঞ্চে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, যেমন কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, সরকারি কর্মচারী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং ইউনিটি ফোরামের দায়ের করা একাধিক পিটিশনগুলি একসঙ্গে শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল।
বকেয়া ডিএ প্রদান এবং ২৪ মাসের ‘লক-ইন’ পিরিয়ড বিতর্ক
শুনানি চলাকালীন রাজ্য সরকারের তরফে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে, বকেয়া ডিএ-এর ৬৫ শতাংশ ইতিমধ্যেই মেটানো হয়েছে এবং প্রায় ৭,৭০০ কোটি টাকা কর্মীদের প্রদান করা হয়েছে। বাকি অংশ প্রদানের প্রক্রিয়াও চলছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটির তত্ত্বাবধান করছেন।
তবে, এই দাবির পাল্টা জোরালো যুক্তি দেন ইউনিটি ফোরামের আইনজীবী করুণা নন্দী। তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জানান যে, রাজ্য সরকার যে টাকা প্রদান করেছে, তার অনেকটাই কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) অ্যাকাউন্টে জমা করা হচ্ছে। এর সঙ্গে একটি ২৪ মাসের ‘লক-ইন’ পিরিয়ড জুড়ে দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছর কর্মীরা এই টাকা কোনোভাবেই তুলতে পারবেন না। করুণা নন্দী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, কর্মীদের নিজেদের প্রাপ্য টাকা এভাবে আটকে রাখা চরম অন্যায় এবং এর ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ কর্মী, বিশেষ করে গ্রুপ এ, বি এবং সি কর্মীরা, তাঁদের প্রাপ্য টাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে, সুপ্রিম কোর্টের আগের অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ অনুযায়ী দ্রুত ২৫ শতাংশ বকেয়া রিলিজ করার কথা থাকলেও, তা সকলের কাছে পৌঁছায়নি।
মনিটরিং কমিটি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
এই আইনি জটিলতা নিরসনে এবং রেট ক্যালকুলেশন সংক্রান্ত সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা প্রস্তাব দেন যে, কর্মচারী সংগঠনগুলির তরফে কয়েকজন প্রতিনিধিকে বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার মনিটরিং কমিটির কাছে পাঠানো হোক। সেখানে তাঁরা তাঁদের অভিযোগ ও দাবি-দাওয়া বিস্তারিতভাবে জানাতে পারবেন। আদালত এই প্রস্তাবে সম্মতি দেয় এবং নির্দেশ দেয় যে, কারা এই কমিটির সামনে কর্মীদের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তা সংগঠনগুলিকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দ্রুত ঠিক করতে হবে।
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, আগামীকাল দুপুর ২টোর মধ্যে এই প্রতিনিধিদের নামের তালিকা জমা দিতে হবে। বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যে যাতে মতপার্থক্য না থাকে, তাই আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, সর্বসম্মতভাবে এক বা দুজন প্রতিনিধি নির্বাচন করে আগামীকাল নামের তালিকা পেশ করতে হবে। এরপরই ওই প্রতিনিধিরা সরাসরি মনিটরিং কমিটির কাছে গিয়ে তাঁদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবেন।
রাজ্য সরকারি কর্মীদের আশা ও রোপা ২০০৯-এর বকেয়া
পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তাঁদের হকের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। রোপা-২০০৯ এর বকেয়া আদায়ের এই লড়াই কলকাতা হাইকোর্ট হয়ে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত পৌঁছেছে। রাজপথের আন্দোলন, অনশন এবং আইনি লড়াইয়ের এই দীর্ঘ পথে আজকের এই শুনানি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও আজ চূড়ান্ত কোনো রায় আসেনি, তবে মনিটরিং কমিটির সামনে সরাসরি নিজেদের দাবি জানানোর সুযোগ পাওয়া কর্মীদের কাছে এক বড় পদক্ষেপ। আগামীকাল দুপুর ২টোয় যখন প্রতিনিধিদের নামের তালিকা জমা পড়বে, তখন এই মামলার মোড় কোন দিকে ঘোরে, সেটাই এখন দেখার। আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কর্মচারী ও শিক্ষক পক্ষেরই জয় হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা।









