Grant In Aid DA: সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ মেনে রাজ্য সরকারি কর্মীরা মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ পেলেও, সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুল-কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা কেন বঞ্চনার শিকার হবেন? কলকাতা হাইকোর্টের ২৪ নম্বর বেঞ্চে বিচার চলাকালীন ঠিক এই প্রশ্নটিই তুলে ধরেন বিচারপতি অমৃতা সিনহা। রাজ্য সরকারের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করার পাশাপাশি তিনি নির্দেশ দেন গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ মেটানোর কাজ অবিলম্বে শুরু করতে হবে। শুধু তাই নয়, আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট হলফনামা জমা দেওয়ার কড়া বার্তা দিয়েছে আদালত।
বকেয়া পাওনার দাবিতে আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মীদের একাংশ। মামলাকারীদের হয়ে জোরালো সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য, সুদীপ্ত দাসগুপ্ত এবং ফিরদৌস শামিম। আদালতে তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য ছিল, একই রোপা (ROPA) নিয়মের আওতায় থাকা সত্ত্বেও কেন সাহায্যপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ন্যায্য আইনি অধিকার থেকে প্রতিনিয়ত বঞ্চিত রাখা হবে?
আইনি লড়াই ও হাইকোর্টের কড়া বার্তা
শুনানির শুরুতে অর্থ দপ্তরের (Finance Department) কাছ থেকে প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা পাওয়ার জন্য কিছুটা সময় চান রাজ্যের আইনজীবী। কিন্তু তাতে মেলেনি স্বস্তি। শীর্ষ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিজেদের অধিকার থেকে দূরে রাখা হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি।
অবশেষে রাজ্যের আইনি প্রতিনিধি স্বীকার করে নেন যে নিয়ম মেনে গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদেরও ডিএ পাওয়ার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। এর পরেই বিচারপতি অমৃতা সিনহা সাফ জানিয়ে দেন, কোনো অজুহাতে অর্থ দপ্তর নিজেদের দায় এড়িয়ে যেতে পারে না। রোপা ২০০৯ এবং শীর্ষ আদালতের রায় মেনেই সাহায্যপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও নন-টিচিং স্টাফদের বকেয়া মেটানোর বন্দোবস্ত করতে হবে।
হাইকোর্টের নির্দেশের মূল দিকগুলো একনজরে দেখে নেওয়া যাক:
| মামলার বিষয় | আদালতের নির্দেশ ও মূল সময়সীমা |
|---|---|
| আদালতের মূল বার্তা | গ্রান্ট-ইন-এইড কর্মচারীদের ডিএ অবিলম্বে রিলিজ করার নির্দেশ |
| আওতাভুক্ত কর্মী | সাহায্যপ্রাপ্ত প্রাইমারি, হাইস্কুল, কলেজের শিক্ষক ও নন-টিচিং স্টাফ (অবসরপ্রাপ্তসহ) |
| রাজ্যের রিপোর্ট পেশের সময়সীমা | ১১ সেপ্টেম্বর (হলফনামা আকারে) |
| পরবর্তী শুনানির তারিখ | ৬ অক্টোবর |
এবিটিএ মামলা ও আইনি জটিলতা
এদিকে, ওই একই দিনে ২৬৩ নম্বর আইটেমে অল বেঙ্গল টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ABTA) দায়ের করা সমগোত্রীয় একটি মামলা তালিকাভুক্ত হয়েছিল। হাইস্কুল শিক্ষকদের ওই মামলায় সিনিয়র আইনজীবী বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্য একই ধরনের অন্তর্বর্তী আদেশের আর্জি জানান।
তবে রাজ্যের আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য ওই আবেদনের বিরোধিতা করে যুক্তি দেন, এটি একটি পৃথক বিষয় এবং এর জন্য আলাদা নির্দেশিকা প্রয়োজন। আদালত শেষ পর্যন্ত রাজ্যে উপস্থিতি নথিবদ্ধ করে নিলেও, সেই মামলায় তাৎক্ষণিক কোনো নতুন নির্দেশ জারি করেনি।
আইনি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া রাজ্যের ৮৪ পাতার স্ট্যাটাস রিপোর্টের ৬৪ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখিত তথ্যের ওপর ভর করেই হাইকোর্টে আগামী দিনে নিজেদের হলফনামা সাজাতে পারে নবান্ন।
অর্থ দপ্তর আগামী ১১ সেপ্টেম্বরের হলফনামায় ঠিক কী রূপরেখা তুলে ধরে এবং পরবর্তীতে নবান্ন থেকে কী মেমো জারি হয় এখন সেদিকেই অপলক দৃষ্টি রাজ্যজুড়ে কর্মরত লক্ষাধিক শিক্ষক ও কর্মচারীর।









