PMFBY Online Application: বদলে গেল প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনার (PMFBY) আবেদন প্রক্রিয়া। অফলাইনে কাগজের ফর্মে নাম নথিভুক্ত করার দিন এখন অতীত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বন্যা কিংবা শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ক্ষতি হলে সরকারি বীমার টাকা পেতে কৃষকদের এখন ডিজিটাল পথেই হাঁটতে হবে। তবে প্রক্রিয়াকরণ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই; হাতে থাকা সাধারণ স্মার্টফোনে অ্যাপ ডাউনলোড করেই এই অনলাইন আবেদন সহজে সম্পন্ন করা সম্ভব।
সূচিপত্র
অফলাইন ফর্ম বন্ধ: কেন অনলাইনে আবশ্যিক আবেদন?
আগে পঞ্চায়েত দপ্তর কিংবা স্থানীয় কৃষি অফিসে গিয়ে হাতে লেখা ফর্ম জমা দেওয়ার নিয়ম ছিল। সেক্ষেত্রে বানানের ভুল কিংবা নথি হারিয়ে যাওয়ার কারণে চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে লম্বা সময় লেগে যেত।
অন্যদিকে, অ্যাপে সরাসরি আবেদনের ফলে কৃষক নিজেই আধার নম্বর, ব্যাংক বিবরণী আর দাগ-খতিয়ান মেলাতে পারছেন। এতে প্রশাসনিক ভুলভ্রান্তির ঝুঁকি যেমন দূর হয়েছে, তেমনই বিমার টাকাও সরাসরি অ্যাকাউন্টে (DBT) পৌঁছানো সহজ হয়েছে।
অ্যাপ ইনস্টল ও অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া
ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে প্রথমেই অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলের প্লে স্টোর খুলতে হবে। সেখান থেকে ডাউনলোড নিতে হবে Crop Insurance অ্যাপটি।
- প্লে স্টোরে Crop Insurance লিখে সার্চ করে অ্যাপটি ফোনে ইনস্টল করুন।
- অ্যাপটি চালু করে হোম পেজের ‘Login’ অপশনে প্রেস করুন এবং সঠিক মোবাইল নম্বরটি দিন।
- এরপর ‘Login with OTP’ অপশনটি বেছে নিয়ে ফোনে আসা ওটিপি-র মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করে নিন।
প্রোফাইল ও ব্যাংক একাউন্ট যুক্ত করার নির্দেশাবলী
ওটিপি যাচাইয়ের পরেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে ব্যক্তিগত পরিচয় ও ব্যাংকের তথ্য জমা দেওয়ার পাতা। আধার কার্ড এবং ব্যাংক পাসবুকের সঙ্গে মিলিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এই ঘরগুলো পূরণ করতে হবে।
- ব্যক্তিগত তথ্য: এখানে আপনার পুরো নাম, আধার নম্বর, অভিভাবকের (বাবা বা স্বামী) নাম, সঠিক বয়স, লিঙ্গ ও কাস্ট ক্যাটাগরি বেছে নিতে হবে। আধার নম্বর লিখে ভেরিফাই বাটনে প্রেস করলে ফোনে আসা ওটিপি দিয়ে তথ্যটি যাচাই করুন।
- কৃষকের ধরন ও ঠিকানা: জমি নিজের হলে ‘Owner’ এবং আয়তন অনুযায়ী ‘Farmer Type’ (যেমন- Small) বেছে নিন। এরপর পিনকোড, জেলা, ব্লক এবং গ্রামের তথ্য পর পর সঠিকভাবে সিলেক্ট করতে হবে।
- নমিনি ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: নমিনির বক্সে টিক দিয়ে তাঁর নাম ও বয়স লিখুন। IFSC কোড বসালেই ব্যাংকের নাম এবং শাখার তথ্য নিজে থেকেই চলে আসবে। এরপর অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দু’বার টাইপ করে জয়েন্ট নাকি ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাকাউন্ট তা বেছে নিয়ে ‘Save & Next’ অপশনে ক্লিক করুন এবং পুনরায় ওটিপি দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন।
জমি ও ফসলের দাগ-খতিয়ান যুক্ত করার নিয়ম
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ সেভ করার পর স্ক্রিনের নিচে থাকা PMFBY Insurance অপশনে ক্লিক করতে হবে।
সেখানে রাজ্য হিসেবে West Bengal, শস্যের মরশুম (যেমন- Kharif) এবং বর্তমান বছরটি সিলেক্ট করে সাবমিট অপশনে চাপ দিন।
- জমির অবস্থান: জমিটি যে এলাকায় অবস্থিত, ড্রপডাউন মেনু থেকে সেই জেলা, ব্লক, গ্রাম পঞ্চায়েত ও মৌজা বেছে নিন।
- ফসলের ধরন: একধরনের শস্য হলে ‘Individual’ এবং একাধিক শস্যের ক্ষেত্রে ‘Mix’ সিলেক্ট করতে হবে। এর সঙ্গে ফসলের নাম (যেমন- আমন বা আউশ ধান) এবং রোপণের সঠিক তারিখটি ক্যালেন্ডার থেকে নির্দিষ্ট করে দিন।
- খতিয়ান ও দাগ নম্বর: আপনার জমির খতিয়ান বা খাতা নম্বর এবং দাগ বা প্লট নম্বর দিন। একাধিক দাগের জমি থাকলে সংখ্যার মাঝে কমা (,) দিয়ে পরপর লিখতে হবে (যেমন- 55, 236, 863)।
নথি আপলোড ও ১ টাকা প্রিমিয়াম প্রদান
সমস্ত প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়ার পর অ্যাপের সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমির মোট পরিমাণ এবং বীমার অংক হিসাব করে স্ক্রিনে দেখাবে। এর পরেই মিলবে প্রয়োজনীয় নথি আপলোডের বিকল্প:
- ব্যাংক পাসবুক: ব্যাংক অ্যাকাউন্টের প্রথম পাতার একটি পরিষ্কার ছবি আপলোড করা বাধ্যতামূলক।
- জমির পরচা ও সোয়িং সার্টিফিকেট: এগুলো জমা দেওয়া ঐচ্ছিক (Optional), অর্থাৎ সঙ্গে না থাকলেও আবেদন প্রক্রিয়া আটকে থাকবে না।
সব তথ্য যাচাইয়ের পর ‘Proceed for Payment’ অপশনে যান। কৃষক প্রিমিয়াম হিসেবে জমা দিতে হবে মাত্র ১ টাকা। ইউপিআই কিউআর (UPI QR) কোড স্ক্যান করে PhonePe, GPay কিংবা নেট ব্যাংকিংয়ের সাহায্যে এই টাকা মেটানো যাবে। পেমেন্ট সফল হলেই স্ক্রিনে মিলবে একটি ডিজিটাল পিডিএফ (PDF) রসিদ, যা ডাউনলোড করে নিজের কাছে সংরক্ষণ করতে হবে।
কৃষকদের বাস্তব সুবিধা ও পরিবর্তন
অ্যাপনির্ভর এই নয়া ব্যবস্থার ফলে কৃষকদের আর অহেতুক সরকারি অফিসে চক্কর কাটতে হচ্ছে না। কোনো কারণে দুর্যোগে শস্যহানি ঘটলে অ্যাপের সাহায্যেই ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বিমার দাবি জানানো সম্ভব।
পাশাপাশি, নিজের মোবাইল থেকেই পলিসির আবেদন ও সরাসরি টাকা পাওয়ার সমস্ত আপডেট দেখতে পাচ্ছেন কৃষকেরা, যা রাজ্যের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বড় সুবিধা এনে দিয়েছে।









