Ration Card Verification: পশ্চিমবঙ্গ সরকার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। রাজ্যে রেশন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের একটি বড় অভিযোগ ছিল যে, প্রকৃত গরীব মানুষেরা কেন্দ্রীয় সরকারের বেশি ভরতুকির রেশন কার্ড থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবারের হাতে পৌঁছে গেছে সেই ভরতুকির কার্ড। এই বৈষম্য দূর করতে রাজ্য সরকার কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। শুরু হতে চলেছে নতুন করে ভেরিফিকেশন বা যাচাই প্রক্রিয়া, যার ফলে বাতিল হতে পারে বহু অযোগ্য ব্যক্তির রেশন কার্ড।
সূচিপত্র
কেন এই ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হলো?
বিগত দিনে মূলত ভুল সার্ভের কারণে অনেক গরীব মানুষের রাজ্যের কার্ড (RKSY-1, RKSY-2) এবং বড়লোক বা স্বচ্ছল মানুষদের কেন্দ্রের কার্ড (AAY, PHH, SPHH) হয়ে গিয়েছিল। এখন এই ত্রুটি সংশোধন করে প্রকৃত গরীবদের হাতে কেন্দ্রীয় কার্ড তুলে দেওয়াই খাদ্য দপ্তরের মূল লক্ষ্য। সরকারের এই উদ্যোগে রেশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরবে এবং যোগ্য ব্যক্তিরাই কেবল তাদের ন্যায্য রেশন পাবেন।
যে ৫ শ্রেণির মানুষের রেশন কার্ড বাতিল হতে চলেছে
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ২০২৬ সালের সার্ভে (SIR) অনুযায়ী মূলত পাঁচ ধরনের মানুষের রেশন সামগ্রী দেওয়া চিরতরে বন্ধ করা হবে। আপনার নাম এই তালিকায় নেই তো? মিলিয়ে নিন:
- ASDD তালিকাভুক্ত ব্যক্তি: ১৬/০১/২০২৫ তারিখের খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী যারা অনুপস্থিত (Absent), স্থানান্তরিত (Shifted), মৃত (Dead) বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত ছিলেন এবং পরে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেননি।
- আনম্যাপড (Unmapped) ব্যক্তি: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় যাদের নাম আনম্যাপড ছিল (যাদের পরিবারের কেউ ২০০২ সালের ভোটার ছিলেন না) এবং শুনানির পরেও যাদের দাবি বাতিল হয়ে গিয়েছে।
- চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়া নাম: ড্রাফট লিস্টে নাম থাকলেও চূড়ান্ত তালিকা থেকে যাদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে।
- শুনানির পর বাতিল হওয়া নাম: যাদের নাম প্রথমে ‘আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন’ (Under Adjudication) প্রক্রিয়ায় ছিল কিন্তু পরে তা স্থায়ীভাবে ডিলিট বা মুছে ফেলা হয়েছে।
- নির্বাচনের তথ্যের ভিত্তিতে: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভোটার স্লিপ বিতরণের সময় যারা অনুপস্থিত বা মৃত বলে গণ্য হয়েছিলেন।
কাদের রেশন এখনই বন্ধ হচ্ছে না?
যাদের নাম বাতিলের পর ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন এবং তা এখনও প্রক্রিয়াধীন আছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত তাদের রেশন বন্ধ হবে না। এছাড়াও, যারা নাগরিকত্ব আইন বা CAA-তে আবেদন করেছেন এবং সেই আবেদন এখনও প্রসেসিং বা প্রক্রিয়াকরণের স্তরে আছে, তাদেরও রেশন সামগ্রী দেওয়া চালু থাকবে। আবেদন খারিজ হলে তবেই কার্ড বাতিল হবে।
চাকরিজীবীদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা ও পরামর্শ
অফিসিয়াল নির্দেশ না থাকলেও সরকারি চাকরিজীবীদের ভরতুকিযুক্ত রেশন কার্ড নিজে থেকে জমা বা সারেন্ডার (Surrender) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর বদলে আপনারা ঠিকানার প্রমাণপত্র হিসেবে ‘জেনারেল ক্যাটাগরি’-র রেশন কার্ড ব্যবহার করতে পারেন, যেখানে কোনো খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয় না। নিজে থেকে কার্ড সারেন্ডার না করলে পরবর্তী ভেরিফিকেশনে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে দেওয়া হবে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
সরকারের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এর ফলে প্রকৃত অভাবী মানুষেরা সুবিধা পাবেন। অবিলম্বে খাদ্য দপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টালে গিয়ে আপনার কার্ডের স্ট্যাটাস এবং ই-কেওয়াইসি (e-KYC) চেক করে নিন, যাতে কোনো ভুলভ্রান্তির কারণে আপনার প্রয়োজনীয় রেশন বন্ধ না হয়ে যায়।









