পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে গত ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে একটি পরিমার্জিত নির্দেশিকা জারি করে জানানো হয়েছে যে, রাজ্যজুড়ে ‘সেবা সংকল্প অভিযান’ আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১০ অক্টোবর, ২০২৬ পর্যন্ত পালিত হবে। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকাটি সমস্ত দফতরের প্রধান, পৌর কমিশনার, কলকাতা পুরনিগম এবং সকল জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে।
নির্দেশিকা অনুযায়ী, জনসেবার প্রসার, সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি মানুষের কাছাকাছি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এই অভিযান আয়োজিত হচ্ছে। অভিযানের অধীনে মোট দশটি প্রধান কর্মসূচি প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রথম কর্মসূচি ‘আশীর্বাদের প্রদীপ’ পালিত হবে ১৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টায়, যেখানে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা একযোগে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর লক্ষ্যে সম্মিলিত সংকল্প গ্রহণ করবেন। প্রতিটি জেলা ও ব্লক প্রশাসনকে প্রতি বিধানসভা কেন্দ্র পিছু ৫০,০০০টি প্রদীপ সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে। এই উপলক্ষে কলকাতার গঙ্গার ঘাটে ১ লক্ষ প্রদীপ প্রজ্বলনের একটি বিশেষ অনুষ্ঠানও আয়োজিত হবে, যেখানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন বলে নির্দেশিকায় উল্লেখ আছে।
বাকি কর্মসূচিগুলির মধ্যে রয়েছে— ‘আমার স্বপ্নের ভারত’ (১৭-৩০ সেপ্টেম্বর, চিত্র ও বক্তৃতা প্রতিযোগিতা, স্কুল ও উচ্চশিক্ষা দফতর); ‘নমো সেবা – অজানা কাহিনী’ (১৭-২৭ সেপ্টেম্বর জেলাস্তরে ও ২ অক্টোবর রাজ্যস্তরে, সংগীত-নাট্য পরিবেশনা); ‘অঞ্চন মিলন সেবা’ (২৫ সেপ্টেম্বর-২৭ সেপ্টেম্বর, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য বিষয়ক কর্মসূচি); ‘সেবার কাহিনী’ (১৭ সেপ্টেম্বর-৯ অক্টোবর, উপভোক্তাদের অভিজ্ঞতা-নির্ভর ভিডিও সংগ্রহ); ‘সেবা জ্যোতি কলস যাত্রা’ (৭ অক্টোবর, রিলে দৌড় ও সাইকেল র্যালি); ‘সেবায় আমার যোগদান’ (২০ সেপ্টেম্বর-৬ অক্টোবর, পরিচ্ছন্নতা ও বৃক্ষরোপণ); ‘সেবা সেতু অভিযান’ (২ অক্টোবর-৪ অক্টোবর, ব্লক ও পুর এলাকায় পরিষেবা প্রদান শিবির); ‘সেবার রঙে, দেশের সঙ্গে’ (৬ অক্টোবর, জনশিল্প কর্মসূচি); এবং ‘সেবা ফাস্ট ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’ (৯ অক্টোবর, ছাত্রছাত্রী ও তরুণদের জন্য উদ্ভাবনী প্রদর্শন)।
নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের প্রতিটি কর্মসূচির পরিকল্পনা, প্রস্তুতি ও অগ্রগতি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিতভাবে নোডাল মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের জানানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি কর্মসূচির জন্য একটি সুস্পষ্ট দায়িত্ব বণ্টন তালিকা (Responsibility Matrix) তৈরি রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে কাজের পুনরাবৃত্তি বা দায়িত্বের ঘাটতি এড়ানো যায়।
তথ্যসূত্র: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের নির্দেশিকা নং ২১২৯/Secy/I CA/2026, তারিখ ১১.০৯.২০২৬।









