WB DA Case Update: রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মামলায় নয়া নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিচারপতি সঞ্জয় ক্যারল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চে শুনানির পর মনিটরিং কমিটিকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে শীর্ষ আদালত। আন্দোলনকারী সংগঠনগুলির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সশরীরে বসে আগামী ৮ সপ্তাহের মধ্যে একটি পরিপূরক (সাপ্লিমেন্টারি) রিপোর্ট পেশ করতে বলা হয়েছে।
সূচিপত্র
মনিটরিং কমিটির বৈঠকের রূপরেখা ও প্রতিনিধি দল
আদালতের গড়ে দেওয়া বিচারপতিদের নেতৃত্বাধীন কমিটি সরাসরি আলোচনায় বসবে আন্দোলনরত কর্মীদের সঙ্গে। ইতিপূর্বে ৩০ এপ্রিল, ২২ জুলাই এবং ৩ আগস্ট ২০২৬ এই তিন দফায় পৃথক রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছিল কমিটি। তবে প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত বেশ কিছু অমীমাংসিত দাবি এখনও ঝুলে থাকায় এই সর্বদলীয় বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
আসন্ন বৈঠকে বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি হাজির থাকবেন:
- সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ: আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ ও অভিজিৎ উপাধ্যায়।
- কনফেডারেশন: ফিরদৌস শামিম, গোপা বিশ্বাস এবং শ্যামল কুমার মিত্র।
- নিউ ইউনিটি ফোরাম: করুণা নন্দী, বিপুল কুমার ও মৃন্ময় শ্রীমানী।
- ওল্ড ইউনিটি ফোরাম: প্রবীর চ্যাটার্জি এবং দেবপ্রসাদ হালদার।
গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মী ও বকেয়া টাকার বর্তমান তথ্য
গত শুনানিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আইনজীবী জানান, রাজ্যের গ্র্যান্ট-ইন-এইড (Grant-in-Aid) আওতাভুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীরা বকেয়া ডিএ-র কোনো অংশই পাননি। পাল্টা জবাবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে দাবি করেন, সরকার ইতিমধ্যেই বকেয়া বাবদ ৭,৭০০ কোটি টাকা বণ্টন (Disburse) করে দিয়েছে।
বলা হয়েছে, গ্রুপ-ডি (Group-D) কর্মীদের বকেয়া অর্থ নগদ হিসাবে সরাসরি ব্যাঙ্কের বেতন অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে। অন্যদিকে, অন্যান্য ক্যাডারের কর্মীদের ক্ষেত্রে এই বকেয়া অর্থ জমা করা হয়েছে প্রভিডেন্ট ফান্ড বা GPF (General Provident Fund) অ্যাকাউন্টে। প্রশ্ন উঠেছে, গ্র্যান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা কেন সম্পূর্ণ বাদ পড়লেন? মনিটরিং কমিটির বৈঠকে মূলত এই জট খোলার বিষয়টিতেই জোর দেওয়া হবে।
বকেয়া ডিএ মেটানোর বর্তমান চিত্র
| কর্মচারীর বিভাগ | প্রদান প্রক্রিয়া | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|
| গ্রুপ-ডি কর্মী | বেতন অ্যাকাউন্টে সরাসরি ক্যাশ ট্রান্সফার (আংশিক) | রাজ্যের তথ্য অনুযায়ী ক্যাশ জমা সম্পন্ন (আংশিক) |
| অন্যান্য সরকারি কর্মচারী | জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (GPF)-এ ক্রেডিট (আংশিক) | পিএফ অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেখানো হয়েছে (আংশিক) |
| গ্র্যান্ট-ইন-এইড কর্মী ও শিক্ষক | এখনও বকেয়া বরাদ্দ হয়নি | মনিটরিং কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত আলোচনার অপেক্ষায় |
গ্র্যান্ট-ইন-এইডভুক্ত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের পাওনা মেটানোর দিনক্ষণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গিয়েছে। ৮ সপ্তাহের মধ্যে মনিটরিং কমিটি যে পরিপূরক রিপোর্ট দেবে, তার ওপর নির্ভর করবে আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত। মামলাটি ফের আদালতে উঠবে আগামী ২৭শে অক্টোবর ২০২৬ তারিখে। ততদিনে বেঞ্চে বদল আসবে, কারণ বেঞ্চের বর্তমান সদস্য বিচারপতি সঞ্জয় ক্যারল চলতি মাসেই অবসর নিচ্ছেন।









