DA Case Update: রাজ্যের লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী, শিক্ষক ও পেনশনভোগীর জন্য আজ, ১৮ আগস্ট ২০২৬, একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) মামলার শুনানি আজ দুপুর ২টায় সুপ্রিম কোর্টের ৮ নম্বর এজলাসে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর স্পেশাল বেঞ্চে উঠছে। সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ নিজে সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, কর্মীদের পক্ষে সওয়াল করতে আদালতে হাজির থাকবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশিষ্ট আইনজীবী তথা ভারতের প্রাক্তন সলিসিটর জেনারেল মাননীয় গোপাল সুব্রহ্মণ্যম।
সূচিপত্র
আজকের তালিকায় কী কী রয়েছে?
রাজ্য সরকার বনাম কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ মামলাটি আজ “ফিক্সড ম্যাটার” (পার্ট-হার্ড) হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একাধিক অবমাননার মামলাও; কনফেডারেশন অব স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ, সরকারি কর্মচারী পরিষদ, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ এবং ইউনিটি ফোরামের দায়ের করা পিটিশনগুলি একইসঙ্গে শুনানির জন্য নির্ধারিত। মূল মামলা শেষ হওয়ার পর তালিকায় সময় বাকি থাকলে নিয়মিত তালিকার অন্য মামলাগুলিও শোনা হতে পারে। এই ধরনের বিশেষ বেঞ্চ গঠনই বুঝিয়ে দিচ্ছে, আদালত এই জটিল মামলাটিকে ঠিক কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।
গোপাল সুব্রহ্মণ্যমের উপস্থিতিতে বাড়ছে আশা
গোপাল সুব্রহ্মণ্যম এই মামলায় নতুন মুখ নন। অতীতের একাধিক শুনানিতে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষে সওয়াল করে তিনি কর্মী মহলে যথেষ্ট আস্থা তৈরি করেছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও যুক্তির জোরেই আজকের শুনানি ঘিরে জয়ের আশা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানিয়েছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ।
১৬ আগস্টের কনফারেন্সে কী বলেছিলেন ভাস্কর ঘোষ?
শুনানির দুদিন আগে, ১৬ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায়, সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের সঙ্গে ডিএ মামলা নিয়ে কনফারেন্সে বসেছিলেন আইনজীবী গোপাল সুব্রহ্মণ্যম। এই প্রসঙ্গে ভাস্কর ঘোষ জানিয়েছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করার পথে যে জটিলতাগুলি রয়েছে, তা কাটাতে আদালতের ভেতরে ও বাইরে দুই জায়গাতেই সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ। একদিকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে, অন্যদিকে আদালতের নির্দেশ মেনে রোপা-২০০৯-এর বকেয়া আদায়ের লড়াইও সমান গুরুত্ব দিয়ে চালানো হচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। তাঁর কথায়, “দুটোর মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। শেষ পর্যন্ত জয় কর্মচারী-শিক্ষক পক্ষের হবে।”
মামলার প্রেক্ষাপট
এই মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বাধীন মনিটরিং কমিটি, যাদের রিপোর্টের ভিত্তিতেই আজকের শুনানিতে আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও ইতিমধ্যে বকেয়া ডিএ-র একাংশ ধাপে ধাপে সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়তে শুরু করেছে, যদিও শিক্ষকসহ গ্রান্ট ইন এইড কর্মীরা এবং কলকাতা পুরসভা এলাকার বহু পেনশনভোগী এখনও সেই টাকার অপেক্ষায়। এই আবহে মামলার সঙ্গে যুক্ত একজন বিচারপতি চলতি মাসেই অবসর নিতে চলেছেন বলে খবর, যা আজকের শুনানিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারী, শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীরা তাদের হকের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ-র দাবিতে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজপথের আন্দোলন থেকে শুরু করে অনশন, এমনকি আইনি লড়াইয়ের দীর্ঘ পথ কোথাও তাদের প্রতিবাদের সুর স্তিমিত হয়নি। কলকাতা হাইকোর্টে কর্মীদের পক্ষে রায় যাওয়ার পর রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। এরপর বারংবার শুনানির তারিখ পিছিয়েছে, বেড়েছে প্রতীক্ষা। কিন্তু আজকের এই বিশেষ বেঞ্চের শুনানি তাদের কাছে এক বিরাট আশার আলো। আইনি লড়াইয়ে চূড়ান্ত প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং শেষ পর্যন্ত কর্মচারী ও শিক্ষক পক্ষেরই জয় হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে যৌথ মঞ্চ। আজ সুপ্রিম কোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ।









