Farmer ID West Bengal: ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশনের হাত ধরে রাজ্যে শুরু হলো নতুন এক অধ্যায়। এবার পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত কৃষকের জন্য তৈরি হচ্ছে ১১ ডিজিটের একটি অনন্য ‘ফার্মার আইডি’ (Farmer ID)। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘এগ্রিস্ট্যাক’ (AgriStack) প্রকল্পের অধীনেই রাজ্যের প্রতিটি চাষিকে একটি ডিজিটাল তালিকার আওতায় আনার কাজ শুরু হয়েছে। আপনি যদি সরকারি কৃষি ঋণ বা কোনো অনুদানের সুবিধা পেতে চান, তবে এই পরিচয়পত্রটি বানানো এখন বাধ্যতামূলক বললেই চলে।
সূচিপত্র
এগ্রিস্ট্যাক ও ফার্মার রেজিস্ট্রি কীভাবে কাজ করবে?
কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রক এবং রাজ্য কৃষি দপ্তরের সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে এই ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার। মূলত কৃষকের নাম, স্থায়ী ঠিকানা, আধার নম্বর এবং জমিসংক্রান্ত বিবরণ (দাগ ও খতিয়ান) এক ছাতার তলায় এনে তৈরি হবে একটি সংহত ডিজিটাল প্রফাইল।
তথ্য এক জায়গায় থাকায় সরকারের কাছে প্রতিটি চাষির সঠিক খতিয়ান থাকবে। এর ফলে ভুয়ো পরিচয় দিয়ে সরকারি সাহায্য হাতিয়ে নেওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ হবে। সহজ কথায়, প্রকৃত কৃষকের কাছেই পৌঁছাবে সব সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
১১ ডিজিটের ইউনিক আইডি তৈরির সুবিধা
এই কার্ড হাতে থাকলে সরকারি কোনো কাজের জন্য আর বারবার দপ্তর দৌড়াতে হবে না। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক মূল সুবিধাগুলো:
- সহজ কিষাণ ক্রেডিট কার্ড (KCC): ব্যাঙ্ক লোন পাওয়ার প্রক্রিয়া হবে ঝঞ্ঝাটহীন। আইডি দেখালেই ব্যাঙ্ক পোর্টাল থেকে সরাসরি জমি যাচাই করে দ্রুত ঋণ মঞ্জুর করবে।
- ঝামেলাহীন ধান বিক্রি: সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে (CPC) সহায়ক মূল্যে (MSP) ফসল বিক্রির সময় আর কাগজের পাহাড় নিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হবে না।
- সরাসরি ব্যাঙ্কে অনুদান (DBT): বীজ, সার কিংবা কৃষি সরঞ্জাম কেনার ভরতুকির টাকা সোজা জমা হবে কৃষকের লিঙ্ক করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
- সরকারি প্রকল্পের সুবিধা: রাজ্য সরকারের ‘কৃষক বন্ধু’, কেন্দ্রের ‘পিএম কিষাণ’ কিংবা ‘বাংলা ফসল বিমা’-র ক্ষতির টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে এই আইডি অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।
পুরনো পদ্ধতি ও নতুন এগ্রিস্ট্যাক ব্যবস্থার তুলনা
| বিষয় | আগের ব্যবস্থা | নতুন এগ্রিস্ট্যাক ব্যবস্থা (ফার্মার আইডি) |
|---|---|---|
| সুবিধা প্রাপ্তি | বারবার কাগজের ফাইল জমা ও অফিসে যাওয়া | ১১ ডিজিটের আইডি দিয়ে একক ডিজিটাল ভেরিফিকেশন |
| ঋণ ও বিমা অনুমোদন | যাচাইকরণের অভাবে দীর্ঘ দিন অপেক্ষার নিয়ম | কাগজবিহীন দ্রুত কেসিসি লোন ও সরাসরি বিমা দাবি |
| ফসল বিক্রি (MSP) | মধ্যস্থতাকারীদের প্রভাব ও জটিল প্রক্রিয়া | সরকারি পোর্টালে সরাসরি তথ্য যাচাই ও অ্যাকাউন্টে টাকা |
| ডেটা নিরাপত্তা | আলাদা আলাদা পোর্টালে বিক্ষিপ্ত তথ্য | আধার ও জমির রেকর্ডের সাথে সংযুক্ত একটি কেন্দ্রীয় আইডি |
রেজিস্ট্রেশনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র
এই কার্ড তৈরি করতে কৃষকদের কোনো ফি দিতে হবে না। পুরো প্রক্রিয়াটি একেবারেই বিনামূল্যে করা হচ্ছে। আবেদনের সময় সাথে রাখতে হবে:
- আবেদনকারীর নিজের আধার কার্ড।
- আধারের সাথে যুক্ত থাকা সচল মোবাইল নম্বর (ওটিপি যাচাইয়ের জন্য)।
- জমির সাম্প্রতিক আপডেট করা খতিয়ান বা পরচা (বাংলার ভূমি পোর্টাল অনুযায়ী)।
কীভাবে করবেন আবেদন?
এদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অফিসিয়াল পোর্টাল wbfr.agristack.gov.in-এর মাধ্যমে অনলাইনেই নথিভুক্তির বন্দোবস্ত রয়েছে। তবে অনলাইন পোর্টালে জমির তথ্য ফেচ করার ক্ষেত্রে কিছু সাময়িক প্রযুক্তিগত কাজ চলায় বর্তমানে অফলাইন ক্যাম্পের ওপরই বাড়তি জোর দেওয়া হচ্ছে।
আপনার এলাকার পঞ্চায়েত কার্যালয়, তথ্যমিত্র কেন্দ্র (CSC) বা ব্লক কৃষি আধিকারিকের (ADA) দপ্তর থেকে বিশেষ ক্যাম্পের আয়োজন করা হচ্ছে। আধার কার্ড, মোবাইল নম্বর ও জমির পরচা নিয়ে সরাসরি সেই ক্যাম্পে হাজির হলেই দ্রুত বিনামূল্যে তৈরি করে দেওয়া হবে আপনার ১১ ডিজিটের ফার্মার আইডি।
কৃষকদের দৈনন্দিন কাজে এই নির্দেশের প্রভাব
যেসব কৃষকের নামে নিজস্ব চাষের জমি রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের জন্যই এই আইডি তৈরি করা আবশ্যক। ভবিষ্যতে সার-বীজ কেনা থেকে শুরু করে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাওয়া- সব ক্ষেত্রেই ১১ ডিজিটের এই ইউনিক আইডিটি প্রাথমিক ভেরিফিকেশন হিসেবে কাজ করবে। তাই পঞ্চায়েত বা কৃষি দপ্তরের ক্যাম্প চলাকালীনই নাম নথিভুক্ত করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।









